৫ জি আসছে?

চলতি বছরেই ৫ জি প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা শুরু করছে চীন। দেশটির প্রধান তিন মোবাইল অপারেটর কয়েকটি শহরে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ৫ জি নিয়ে পরীক্ষা চালাবে বলে সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

চায়না মোবাইল, চায়না ইউনিকম ও চায়না টেলিকমের সূত্র উদ্ধৃত করে সিনহুয়া বলেছে, পরীক্ষামূলক ওই প্রকল্পটি চীনের বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংজু, চংকিং, সুজো ও নিংবোতে পরিচালিত হবে। ৫ জি নিয়ে পরীক্ষা চালাতে বেজ স্টেশন নির্মাণ, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, স্মার্ট সিটি, স্মার্ট হোমের মতো অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হবে। পরবর্তী ধাপে আরও ১০টি শহরে ৫ জি পরীক্ষা বর্ধিত করা হবে। এ পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে বৈশ্বিক ৫ জির মান নির্ধারণে শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা রাখবে চীন।

চীন ছাড়াও ২০২০ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ৫ জি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য। তবে ওই সময় নির্ধারণকে বিশেষজ্ঞরা ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ বলছেন।

পাকিস্তানের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী আনুশা রহমান বলেছেন, উপমহাদেশের মধ্যে প্রথম ৫জি নিয়ে পরীক্ষা চালাবে পাকিস্তান।

৫ জি কী? এখন পর্যন্ত ৫ জির মান নির্ধারণ করতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। তবে এটি নিশ্চয় ইন্টারনেটের দৃশ্যপট বদলে দেবে। বিশাল তথ্য কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ডাউনলোড করা যাবে। বর্তমানে এলটিই প্রযুক্তিতে ডেটা স্থানান্তরের গতির চেয়ে ৫ জির গতি বেশি হবে। এখন পর্যন্ত ৫ জির প্রোটোটাইপ নিয়ে চীন যে পরীক্ষা চালিয়েছে, তাতে ৩ দশমিক ৫ জিবিপিএস পর্যন্ত গতি পাওয়া গেছে।

মোবাইলের দুনিয়ায় প্রতিটি জি অর্থ জেনারেশন বা প্রজন্মকে বোঝায়। প্রতিটি জি বা প্রজন্ম যখন চালু করতে হয়, তখন প্রযুক্তিবিশ্বকে কতগুলো বিষয়ে একমত হতে হয়। জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশনস ইউনিয়ন (আইটিইউ) সংস্থাটির দায়িত্ব হচ্ছে, এ নেটওয়ার্কের মান ঠিক করা।

আইটিইউয়ের বিশেষজ্ঞরা ৫ জির পারফরম্যান্সের প্রয়োজনীয় কয়েকটি বিষয়ে একমত হয়েছেন। যার মধ্যে শুরুতেই আছে কল ড্রপের বিষয়টি। ৫ জিতে কোনো কল ড্রপ হবে না। ৫ জি নেটওয়ার্কের টাওয়ার বদল করা হলেও কল ড্রপ বা ইন্টারনেট সংযোগের কোনো পরিবর্তন হবে না। আইটিইউয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জি নেটওয়ার্কে মোবাইলে ব্যাঘাত বলে কিছু থাকবে না। যদি কোনো সমস্যা হয়, তবে তা ৫ জি বলে গণ্য হবে না।

কল ড্রপের পর আছে কম ল্যাটেন্সির বিষয়টি। ৫ জি ফোনে ল্যাটেন্সি ৪ মিলিসেকেন্ড থেকে ১ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে থাকতে হবে। ল্যাটেন্সি মিলিসেকেন্ডে হিসাব করা হয়। ল্যাটেন্সি হচ্ছে মোবাইল ফোনের সংকেত ইন্টারনেট সার্ভারে পৌঁছানোর সময়। ফোরজিতে ল্যাটেন্সি ৫০ মিলিসেকেন্ড। ল্যাটেন্সি কম হলে অগমেন্টেড রিয়্যালিটি, স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটির মতো বিষয়গুলো উন্নত হবে।

৫ জিতে ব্যাটারিতে চার্জ কম ফুরাবে। সাধারণত ডেটা ব্যবহারের সময় মোবাইলের ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হতে দেখা যায়। ৫ জিতে ব্যাটারির দক্ষতা বেড়ে যাবে। ফোন যখন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবে না, তখনকার স্লিপ মোড ফিচারটি উন্নত হবে।

দ্রুতগতিতে চলার সময়েও ৫ জি ভালো কাজ করবে। গত যদি ঘণ্টায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়, তবুও ৫ জি দুর্দান্ত কাজ করবে। বর্তমানে গাড়ি যদি দ্রুত চলে, তখন মোবাইল দ্রুত টাওয়ার পরিবর্তন করে। দ্রুত চলার সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিকমতো কাজ করে না। ৫ জিতে এ সমস্যা থাকবে না। তথ্যসূত্র: প্রথম আলো